Advertisement

বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেছে, ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হয় শিক্ষার্থীরা

প্রথম আলো

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

বিদ্যালয়ে যেতে নৌকায় উঠছে শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার রাজাখালী ইউনিয়নের ভাঁখালী এলাকায়ছবি: প্রথম আলো
বিদ্যালয়ে যেতে নৌকায় উঠছে শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার রাজাখালী ইউনিয়নের ভাঁখালী এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

ভেঙে পড়ার দুই মাস পার হলেও মেরামত করা হয়নি কক্সবাজারের পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়ন ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগকারী একটি বাঁশের সাঁকো। এ কারণে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগে পড়েছে দুই উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। বিশেষ করে নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীকে।

স্থানীয় জলকদর খালের ওপর ৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যায় গত ২৯ জুন রাতে। এর আগের বছর আমিরুল হক এমরুল কায়েস নামে এক বাসিন্দার অর্থায়নে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

জলকদর খাল ঘেঁষে পেকুয়া উপজেলার রাজাখালীতে গড়ে উঠেছে বেশারাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, ফৈজুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, ফৈজুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাঁশখালীর ছনুয়া এলাকার প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। তারা সাঁকোটি পার হয়ে পেকুয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় নিয়মিত যাতায়াত করছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, রাজাখালীর ভাঁখালী এলাকায় সাঁকোটির ভাঙা অংশ পড়ে রয়েছে। সেখান থেকে ২০০ ফুট পশ্চিমে ডিঙিনৌকায় করে স্থানীয় বাসিন্দারা খাল পার হচ্ছেন। খালের দুই পাড়ে কোনো পাকা সিঁড়ি না থাকায় নৌকায় উঠতে গিয়ে তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

প্রতিদিন নৌকা নিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করি। বৃষ্টি হলে খুব কষ্ট হয়। পোশাকে কাদা লেগে যায়। আলাদা কাপড় নিয়ে অনেক সময় স্কুলে যাই। পানি বাড়লে খাল পার হতে বেশি ভয় লাগে।
—লিজা মনি, ছাত্রী, ফৈজুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নৌকায় উঠতে উঠতে ফৈজুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী লিজা মনি বলে, ‘প্রতিদিন নৌকা নিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করি। বৃষ্টি হলে খুব কষ্ট হয়। পোশাকে কাদা লেগে যায়। আলাদা কাপড় নিয়ে অনেক সময় স্কুলে যাই। পানি বাড়লে খাল পার হতে বেশি ভয় লাগে।’

রাজাখালী বেশারাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার ফাজিল তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী উম্মে হাফসা বলেন, সাঁকো যখন ছিল, তখন খুব সহজে যাতায়াত করা যেত। প্রতিদিন ক্লাস করা সম্ভব হতো। এখন সাঁকো না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে। এ কারণে নিয়মিত ক্লাস করা সম্ভব হয় না।

ডিঙিনৌকার চালক ওসমান গণিও ছনুয়া ইউনিয়নের ছেলবন এলাকার বাসিন্দা। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খাল পারাপারের জন্য পাঁচ টাকা করে নেন বলে জানান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিদিন নিজের চোখে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা দেখি। শিশু ও বৃদ্ধদের কেউ না কেউ নৌকা থেকে পাড়ে নামতে গিয়ে পা পিছলে পানিতে বা কাদায় পড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সাঁকোটি নির্মাণের পর দুই পারের মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়ে ওঠে। বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের ছেলবন, তুতুকখালী, মৌলভীপাড়া, মধুখালী, নোয়াপাড়া, আবাহখালী, টেকপাড়া, বালুখালী ও ছোট ছনুয়া গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা রাজাখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করে আসছে। রাজাখালীর আকবরশাহ বাজারে সদাই করতে আসাও সহজ হয়ে ওঠে। একইভাবে রাজাখালীর মানুষও ছনুয়ায় মাছের ঘের ও লবণের মাঠে কাজ করে যেকোনো সময় সহজে বাড়িতে ফিরতে পারতেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সাঁকোটি নির্মাণের পর দুই পারের মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়ে ওঠে। বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের ছেলবন, তুতুকখালী, মৌলভীপাড়া, মধুখালী, নোয়াপাড়া, আবাহখালী, টেকপাড়া, বালুখালী ও ছোট ছনুয়া গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা রাজাখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করে আসছে। রাজাখালীর আকবরশাহ বাজারে সদাই করতে আসাও সহজ হয়ে ওঠে। একইভাবে রাজাখালীর মানুষও ছনুয়ায় মাছের ঘের ও লবণের মাঠে কাজ করে যেকোনো সময় সহজে বাড়ি ফিরতে পারতেন।

ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আরফাতুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তাঁর ওয়ার্ডের সব শিক্ষার্থী ওপারে রাজাখালীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। ছনুয়ার উচ্চবিদ্যালয়টির অবস্থান অন্তত সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে, যাতায়াতব্যবস্থাও খুবই খারাপ। এ কারণে সবাই রাজাখালীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঝুঁকেছে। এখন রাজাখালী যেতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

ফৈজুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের আইসিটি শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ছনুয়াখালের পাড়েই রাজাখালী অংশে ফৈজুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফৈজুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, রাজাখালী বেশারাতুল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অবস্থান। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ৫০০ শিক্ষার্থী বাঁশখালী থেকে সাঁকো পার হয়ে আসে।

সাঁকোর উদ্যোক্তা ছনুয়ার বাসিন্দা আমিরুল হক ইমরুল কায়েস বলেন, সাঁকোটি খালের পানি থেকে অনেক উঁচু ছিল। পারাপারের সময় যাতে শিশুরা ভয় না পায়, সে জন্য ফাঁক না রেখে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ ফুটের ৪৯৭টি বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করা হয়েছিল। একটি লবণের ট্রলারের কারণে সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এটি কেউ ইচ্ছা করে ভেঙে দিয়েছেন।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঈনুল হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সাঁকোটি দুই উপজেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছিল। সেখানে স্থায়ী কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করা যায় কি না, সে ব্যাপারে বাঁশখালীর ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে দেখবেন।

Lading . . .