Advertisement

প্রদীপ্তর দাপটে কেরালার ব্যাটিংয়ে ধস, সামির ৫ উইকেট, রঞ্জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক বাংলার

এই সময়

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

২৮৭ রানে কেরালাকে হারাল বাংলা।,ছবি: মনোজ তিওয়ারি ফেসবুক
২৮৭ রানে কেরালাকে হারাল বাংলা।,ছবি: মনোজ তিওয়ারি ফেসবুক

মহম্মদ সামির (Mohammed Shami) প্রত্যাবর্তন ঘিরে বাংলার ক্রিকেটে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বল হাতে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রঞ্জি ট্রফিতে (Ranji Trophy)। কেরলের বিরুদ্ধে দুই ইনিংস মিলিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন অভিজ্ঞ পেসার। তবে এই ম্যাচে বাংলার বড় জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান প্রদীপ্ত প্রামাণিকের (Pradipta Pramanik)। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে কেরালার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি।

অন্য দিকে, ব্যাট হাতে শতরান করার পাশাপাশি বল হাতেও চার উইকেট নিয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স শাহবাজ় আহমেদের (Shahbaz Ahmed)। তিন ক্রিকেটারের দাপটে কেরালাকে ২৮৭ রানে হারিয়ে রঞ্জি ট্রফিতে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল বাংলা (Bengal)। গ্রুপ ‘সি’-তে তিন ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানও ধরে রাখল অভিমন্যু ঈশ্বরনের দল।

শাহবাজ়ের শতরান, লড়াই করে ৩৫০ রান বাংলার

টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেরালা। শুরুতে বাংলার ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করতে সফল হয়েছিল প্রতিপক্ষ। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় একটা সময়ে সমস্যায় পড়ে বাংলা। কিন্তু সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন শাহবাজ় আহমেদ। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সুমন্ত গুপ্ত ও অঙ্কুর পাল। শাহবাজ়ের ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য ও আক্রমণের সুন্দর মিশেল। বড় শট খেলার পাশাপাশি স্ট্রাইক ঘুরিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান তিনি।

বাংলা-কেরালা রঞ্জি ট্রফির ম্যাচের ছবি।

শেষ পর্যন্ত ২০৩ বলে ১২১ রান করেন শাহবাজ়। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা। সুমন্ত গুপ্ত ৪৯ রান করে আউট হলেও তাঁর ইনিংস বাংলার রান বাড়াতে সাহায্য করে। অন্য দিকে, অঙ্কুর পাল ৮০ বলে ৬৬ রান করে দলের স্কোরকে আরও শক্তিশালী করেন। শেষ দিকে প্রদীপ্ত প্রামাণিকের ২৭ রানের ইনিংসও বাংলার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে ১০২.২ ওভারে ৩৫০ রানে প্রথম ইনিংস শেষ হয় বাংলার। কেরালার হয়ে আদিত্য সারওয়াতে চারটি এবং এনপি বাসিল তিনটি উইকেট নেন।

সামির অভিজ্ঞতা, প্রদীপ্তর বোলিংয়ে ২০৯ রানের লিড

৩৫০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলার বোলিংয়ের সামনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি কেরালা। নতুন বল হাতে সামি শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন। অভিজ্ঞ এই পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দেন প্রদীপ্ত। প্রথম ইনিংসে ৩৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন সামি। প্রদীপ্তর ঝুলিতে আসে চারটি উইকেট। কেরালার হয়ে অধিনায়ক বিষ্ণু বিনোদ সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন। কিন্তু বাকিরা কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে ৫১.৩ ওভারে মাত্র ১৪১ রানে শেষ হয়ে যায় কেরালার প্রথম ইনিংস। ২০৯ রানের বড় লিড পেয়ে যায় বাংলা।

প্রথম ইনিংসে এই লিডই ম্যাচে বাংলাকে অনেকটা এগিয়ে দেয়। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিল না দল। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট হারায় বাংলা। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন ৪৭ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। ৪৬ ওভারে ১৯৮ রানে শেষ হয় বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস। তবে এই ইনিংসে বাংলার ব্যাটিংয়ে বড় রান না এলেও প্রথম ইনিংসের লিডের সুবাদে কেরালার সামনে ৪০৮ রানের কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করাতে সক্ষম হয় দল। কেরালার হয়ে এই ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন অভিজ্ঞ স্পিনার জলজ সাক্সেনা।

বাংলা-কেরালা রঞ্জি ট্রফির ম্যাচের ছবি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেট প্রদীপ্তর, ১২০ রানেই শেষ কেরালা

৪০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে কেরালা। বড় রান তোলার তাগিদে ব্যাট করতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে তারা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগান প্রদীপ্ত। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন বাংলার এই বোলার। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯ ওভার বল করে ৫১ রান দিয়ে ছয় উইকেট তুলে নেন প্রদীপ্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা ১০। কেরালার ব্যাটিং লাইন-আপে কার্যত ধস নামিয়ে ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি।

অন্য দিকে, দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দু'টি উইকেট নেন সামি। ফলে ম্যাচে তাঁর মোট উইকেটসংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ। শাহবাজ়ও দুই ইনিংসে দু'টি করে উইকেট নিয়ে মোট চারটি উইকেট পান। বাংলার তিন বোলারের সম্মিলিত দাপটে কেরালার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১২০ রানে। ফলে ২৮৭ রানের বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলার।

ম্যাচের পর প্রদীপ্ত বলেন, ‘একটি ম্যাচে ১০টি উইকেট নিতে পারা আমার কাছে খুবই বিশেষ এবং গর্বের মুহূর্ত। তবে সবচেয়ে বড় কথা, দলের জয় ও সাফল্যে অবদান রাখতে পেরে আমি খুশি। আগামী ম্যাচগুলিতেও এই ছন্দ ধরে রেখে বাংলার জয়ে সাহায্য করাই এখন আমার লক্ষ্য।’ এই জয়ের ফলে রঞ্জি ট্রফির গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলার দাপট আরও বাড়ল। মরশুমের শুরুতে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে পরের পর্বে ওঠার লড়াইয়ে আরও সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে যাবে বাংলা।

Lading . . .