Advertisement

এক ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি, কোহলির ইতিহাস, গিলের দাপট— উইন্ডিজ়কে ৮ উইকেটে হারাল ভারত

এই সময়

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে ৮ উইকেটে হারাল ভারত।,ছবি: BCCI
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে ৮ উইকেটে হারাল ভারত।,ছবি: BCCI

একটা ম্যাচ, দু’টি সেঞ্চুরি, আর ইতিহাসের পাতায় একসঙ্গে লেখা হলো দুই আলাদা গল্প। তিরুবনন্তপুরমের রাতটা শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল বিরাট কোহলি (Virat Kohli) ও শুবমান গিলের (Shubman Gill)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় (West Indies) ২৯৫ রান তুলে ভারতের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। কিন্তু রান তাড়ার মঞ্চে নেমে সেই চ্যালেঞ্জকে কার্যত ছেলেখেলায় পরিণত করলেন ভারতের দুই প্রজন্মের দুই তারকা। গিলের ব্যাটে এল অধিনায়কোচিত দুরন্ত শতরান, আর কোহলি ৮৫ বলে ১২৬ রানের ঝড় তুলে শুধু ম্যাচই জেতালেন না, ODI ক্রিকেটে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে ঢুকে পড়লেন ইতিহাসে। ৪১.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রান তুলে প্রথম ODI ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতে সিরিজ়ে এগিয়ে গেল ভারত।

গ্রিভসের শতরানে বড় রান তোলার স্বপ্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের

টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল। কিন্তু শুরুটা মোটেও ভারতের পক্ষে যায়নি। জন ক্যাম্পবেল (John Campbell) ও জাস্টিন গ্রিভস (Justin Greaves) প্রথম উইকেটে ১৩৫ রান যোগ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে শুরুটা দুর্দান্ত করেন। প্রথম ১০ ওভারেই ওঠে ৮৫ রান। ক্যাম্পবেল ৬০ বলে ৬২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে গ্রিভস আরও বড় ইনিংস খেলেন। ১০৮ বলে ১০১ রান করে নিজের প্রথম ODI শতরান পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চার। একটা সময় মনে হচ্ছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ৩২০-৩৩০ রানের দিকে এগিয়ে যাবে।

কিন্তু সেখানেই ম্যাচের ছবিটা বদলে দেন কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav)। ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে শুরু হয় ভারতীয় স্পিনারের দাপট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের মাঝের সারিতে দ্রুত ধাক্কা দেন তিনি। একটা সময় মাত্র ২১ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে ফেলে ক্যারিবিয়ান দল। শাই হোপ ১১ বলে ১২ রান করে কুলদীপের শিকার হন। জুয়েল অ্যান্ড্রু মাত্র ১ বল খেলে কোনও রান না করেই ফিরে যান। গ্রিভসের শতরানও শেষ পর্যন্ত দলের স্কোরকে প্রত্যাশা মতো বড় জায়গায় নিয়ে যেতে পারেনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে বিরাট কোহলি এবং শুবমান গিল।

জ্যাঙ্গুর ঝড়ে ২৯৫-এ থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়

মাঝের ধাক্কা সামলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে ফের লড়াইয়ে ফেরান আমির জ্যাঙ্গু (Amir Jangoo)। ৪৩ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৭টি চার ও ১টি ছক্কা। রস্টন চেজ়ও ৩২ বলে ২৪ রান করেন। দু’জনে মিলে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে আড়াইশোর গণ্ডি পার করান। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। ভারতের হয়ে কুলদীপ যাদব ১০ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। প্রসিধ কৃষ্ণ ১০ ওভারে ৬০ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। নীতীশ কুমার রেড্ডি নেন একটি উইকেট।

২৯৫ রান খুব সহজ লক্ষ্য ছিল না। বিশেষ করে তিরুবনন্তপুরমের পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হাতে ছিল ভারতকে চাপে ফেলার মতো যথেষ্ট রান। কিন্তু ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ যে অন্য পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিল, সেটা শুরু থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

গিল-কোহলির ব্যাটে উড়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের চ্যালেঞ্জ

রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও শুবমান গিল ভারতের রান তাড়ার শুরুটা দুর্দান্ত করেন। প্রথম উইকেটে ৭৪ রান যোগ করেন দু’জনে। রোহিত ৩৫ বলে ৩২ রান করে ফিরলেও ততক্ষণে রান তাড়ার ভিত তৈরি হয়ে গিয়েছে। তার পর ক্রিজ়ে আসেন কোহলি। শুরুতে গিল ছিলেন আগ্রাসী, কোহলি ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ খুঁজছিলেন। তার পর দু’জনের ব্যাটে যেন একই সঙ্গে গতি বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় উইকেটে ১৫১ রানের দুরন্ত জুটি গড়েন গিল ও কোহলি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের উপর চাপ আরও বাড়তে শুরু করে।

গিল ১০৮ বলে ১১০ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ৩টি ছক্কা। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এমন একটি শতরান যে কোনও ব্যাটারের কাছেই বিশেষ। ৩৩.৬ ওভারে রস্টন চেজ়ের বলে জুয়েল অ্যান্ড্রুর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও ততক্ষণে ভারত জয়ের দরজায় পৌঁছে গিয়েছে। আর অন্য প্রান্তে তখন নিজের গল্প লিখছেন কোহলি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে বিরাট কোহলি এবং শুবমান গিল।

১৫ হাজার থেকে শতরান— কোহলির রাতটা শুধুই তাঁর

১৫ হাজার এক দিনের রান পূর্ণ করতে কোহলির প্রয়োজন ছিল ৫৯ রান। আলজ়ারি জোসেফের বলে চার মেরে সেই মাইলফলক ছুঁতেই গর্জে ওঠে তিরুবনন্তপুরম। দুই হাত তুলে দর্শকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন কোহলি। সচিন তেন্ডুলকরের পর ODI ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান করা দ্বিতীয় ব্যাটার হলেন তিনি। কিন্তু ইতিহাস লেখা তখনও শেষ হয়নি।

৪০ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে কোহলির ব্যাট। গুদাকেশ মোতির বলে লং-অনের উপর দিয়ে বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ৭৪ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। ODI ক্রিকেটে এটি তাঁর ৫৫তম শতরান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮৬তম। তার পরও থামেননি। শেষে পরপর দু’টি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের ইনিংস সমাপ্ত করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮৫ বলে ১২৬ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৭টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ১৪৮-এরও বেশি।

একদিকে গিলের দায়িত্বশীল শতরান, অন্য দিকে কোহলির বিধ্বংসী ব্যাটিং— ভারতের রান তাড়া তখন আর কোনও ক্রিকেট ম্যাচের মতো মনে হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, দুই প্রজন্মের দুই তারকা নিজেদের মতো করে মঞ্চটা দখল করে নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ৪১.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। কোহলির সঙ্গে ঋতুরাজ গায়কোয়াড় অপরাজিত থাকেন ১২ রানে।

Lading . . .