Advertisement

চিরকুটে রাজনীতি আর ভালোবাসা নিয়ে আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ

প্রথম আলো

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

24obnd

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের সিন্দুকে মনোবাসনা পূরণের আশায় মানুষ যেমন টাকাপয়সা ও স্বর্ণালংকার দান করেন, তেমনি কেউ কেউ টাকার সঙ্গে ফেলে যান চিরকুটও।

রীতি অনুযায়ী চার মাস পর আজ শনিবার সকালে খোলা হয়েছে পাগলা মসজিদের সিন্দুকগুলো। এতে মোট ৩২ বস্তা টাকাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে মিলেছে এক বস্তা চিরকুট।

সিন্দুকে পাওয়া চিরকুটে লোকজন তাঁদের মনোবাঞ্ছা জানিয়েছেন। এর মধ্যে দানবাক্সে এমন একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে লেখা রয়েছে, ‘হে পাগলা বাবা তোমার দোয়ার বরকতে নির্বাচন চাই না, আমাদের দরকার ইউনূস সরকার, তুমি দোয়া করো যেন নির্বাচন না হয়, দোয়া রহিল, ইতি সাধারণ জনগণ।’ আবার আরেক চিরকুটে লেখা ছিল, ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে, শেখ হাসিনা বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’

ব্যক্তিগত চাওয়া–পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রকাশও ছিল কোনো কোনো চিরকুটে। যেমন একটি চিরকুটে একজন লিখেছেন, ‘হে আল্লাহ, আমার অন্তরে যে নারী আছে, সে যদি আমার ভাগ্যে থাকে তাহলে তার সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন। আর যদি সে আমার ভাগ্যে না থাকে তাহলে তাকে ভুলে যাওয়ার তৌফিক দেন।’

অন্য এক চিরকুটে অপর একজন লিখেছেন, ‘ভুল পথে আছি কিনা সঠিক পথে আছি জানি না। তুমি অন্তর্যামী। শুধু এইটুকু চাই যেই মানুষটাকে ৫ বছর ধরে ঠিক একইভাবে ফিল করে আসছি, তাকে যদি তুমি আমার কপালে লিখে থাকো, তবে খুব শিগগিরই কোনো সম্মানহানি না করে আমার করে দিও। নয়তো ভুলে যাওয়ার শক্তি দিও। আমিন।’

এসব চিরকুটের বেশির ভাগই বেনামি। অন্যবারের তুলনায় এবার চিরকুটে নাম–ঠিকানা খুব কম পাওয়া গেছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা নতুন নয়, প্রতিবারই সিন্দুক খোলার সময় অনেক চিরকুট পাওয়া যায়। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার সংখ্যাটা বেশি। ৩২ বস্তা টাকার সঙ্গে প্রায় এক বস্তা চিরকুট পাওয়া গেছে। এমনিতেই সিন্দুক ভর্তি থাকে। সে জন্য সিন্দুক বাড়িয়ে ১৩টি করা হয়েছে। এসব চিরকুটের কারণে জায়গা নষ্ট হয়। এ জন্য অনেকেই সিন্দুকে টাকা রাখতে পারেন না। যে কারণে এসব অহেতুক চিরকুটের কারণে তাঁরা অনেকটা বিরক্ত। আবার অনেক সময় এসব চিরকুট ভাইরাল হয়ে যায়। এ নিয়ে বিরূপ মন্তব্যসহ হাসিঠাট্টা হয়। তাই এবার এসব চিরকুট একটি বস্তায় ভরে মুখ বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে দান করে যান পাগলা মসজিদের দানবাক্সে। তাঁরা মনে করেন, এখানে দান করার পর মনের আশা পূরণ হয়।

Lading . . .