ডিবি হেফাজতে লতিফ সিদ্দিকী, যা বললেন কাদের সিদ্দিকী
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০২৫
-68b08a807214e.jpg)
ডিবি হেফাজতে থাকা বড় ভাই আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ডিআরইউতে একটি সেমিনারে ড. কামাল হোসেন প্রধান অতিথি ছিলেন। আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অ্যাডভোকেট জেডআই খান পান্নাও অতিথি ছিলেন। সেই সময় কিছু মানুষ গিয়ে মব সৃষ্টি করে তাদের অনুষ্ঠান বানচাল করেছে। গণতান্ত্রিক দেশে কারো অনুষ্ঠান বানচাল করার কোনো সাংবিধানিক বা আইনি সুযোগ নেই। মব নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে ইউনূস সরকারকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইল শহরের নিজ বাসা সোনার বাংলায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, তাদের এখনো ডিবি অফিসে রাখা হয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীর জন্ম না হলে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে অনেক কিছুই হতো। যেমন বঙ্গবন্ধু না হলে বাংলাদেশ হতো না। তেমনি লতিফ সিদ্দিকীর জন্ম না হলে আমরা রাজনীতিতে আসতাম না। তাদের এখন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো হয়েছে কিনা জানি না।
তিনি বলেন, চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিজয় আমি স্বাধীনতার কাছাকাছি মনে করি। সেই বিজয়ের সফলতা কামনা করি। কিন্তু সেই বিজয়ী বীরদের কার্যকলাপে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমার বিশ্বাস ছিল, তাদের এই বিজয় হাজার বছর চিরস্থায়ী হবে; কিন্তু এক বছরের এই বিজয় ধ্বংসের দিকে চলে যাবে সেটা আশা করি নাই। আওয়ামী লীগের চাইতে এই স্বৈরাচার তো অনেক বড় স্বৈরাচার। মানুষকে কথা বলতে দিচ্ছে না, মতপ্রকাশ করতে দিচ্ছে না। এভাবে দেশ চললে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে লতিফ সিদ্দিকী প্রায় ৪০ বার জেলে গিয়েছেন। বাংলাদেশের আমলেও কয়েকবার জেলে গিয়েছেন। তারা ভাবছেন, কথা বলছেন, ছেড়ে দিলে দিবেন, না হলে কোর্টে যাবেন। আমরাও কোর্টে যাব। দেখতে হবে আইনানুগভাবে চলছে কিনা।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, গ্রেফতার দেখালে কোনো আপত্তি নাই। তারা মিথ্যাও দেখাতে পারে; কিন্তু গ্রেফতার না দেখিয়ে একজন স্বাধীন নাগরিককে এক মিনিটের জন্য কোথাও আটক রাখা যায় না। লতিফ সিদ্দিকীর নামে কোনো ঋণখেলাপি বা কোনো মামলা নেই। আমরা আইন দিয়েই মোকাবিলা করব। দেশটাকে একবারে ধ্বংস করে দিবেন না। দেশ সবার। যখন যে ক্ষমতায় যায় দেশ তারও না, তার বাবারও না। যারা শাসন ক্ষমতায় তারা কিন্তু মালিক না। তারা কিন্তু সেবক। সেবকের মনোভাব নিয়ে যদি অগ্রসর হোন তাহলে অনেক সমস্যার আপনা-আপনি সমাধান হয়ে যাবে।
নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন তার সংস্কার করা দরকার। আর অন্যকিছু অনির্বাচিত কারো দ্বারা করা উচিত না। সেটা কেউ মেনে নেবে না।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আজকের ঘটনায় মঞ্চ ৭১-এর স্রোতা এবং যারা বক্তা ছিলেন কমবেশি অনেককেই ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। তাদের মুক্তি দেওয়া হোক। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান অধ্যাপক ইউনূসের কাছে এটাই আশা করব।