Advertisement

জমিজমা গ্রাস করতেই ফাঁসানো হয় মামলায়

যুগান্তর

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

24obnd

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি না হয়েও বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন সাভারের এক নিরীহ ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মামলায় আসামি করা হলেও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে জমি নিয়ে নিজের ভাই ও ভাতিজাদের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি। তারাই পুলিশকে প্রভাবিত করে আশুলিয়ার দোশাইদ স্কুল ও কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি আমির হোসেন সরকারকে (৫৪) হত্যা মামলার আসামি করে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমির হোসেন আশুলিয়া সরকার মার্কেট এলাকার মৃত আমিন উদ্দিন সরকারের ছেলে। কোনো মামলায় যাতে জামিন হতে না পারে, সেজন্য একাধিক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। কথা হয় আমির হোসেনের মেয়ের জামাই মামুন পালোয়ানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমির হোসেনের পৈতৃক ভিটার ২০ শতাংশ জমি লিখে নিতে চায় আমার চাচাশশুর এমারত হোসেন। এছাড়াও আশুলিয়ায় সম্প্রতি ক্রয় করা ৭ বিঘা জমিও ফেরত নিতে চান এমারত। আমার শ্বশুর ওই জমি কিনে নেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন। এরই জেরে আগে থেকেই আমিরের বিরুদ্ধে একটি দুষ্টচক্র গড়ে তোলা হয় সব সম্পত্তি দখলে নিতে। আমিরের এসব সম্পত্তির মূল্য ৬ কোটি টাকার ওপরে। ওই চক্রটিই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যা মামলাকে কাজে লাগাচ্ছে।১৪ আগস্ট বিকালে আশুলিয়ার আড়াগাঁও দোসাইদ এলাকা থেকে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে আমিরকে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাভারের রংমিস্ত্রি মুজাহিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ডও চাওয়া হয়। এদিকে ডিবির দেখানো মামলায় কারাগারে থাকতেই ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মজিবুর রহমান ভূইয়া আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন আমিরের বিরুদ্ধে।

আমির হোসেনের ছেলে সানি রায়হান বলেন, আমার বাবা কখনোই রাজনীতি করতেন না। এক বছর ধরে চাচারা ষড়যন্ত্র করে পুলিশকে দিয়ে আমার নিরীহ বাবাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গোয়েন্দা পুলিশের ঢাকা জেলা উত্তরের ওসি জালাল উদ্দিন জানান, এক ভাইয়ের সঙ্গে আমিরের বিরোধের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল হান্নান জানান, আমির হোসেন সরকার আওয়ামী লীগ করতেন। কোনো পদে ছিলেন কি না, জানা নেই। তার সঙ্গে অনেক নেতার ছবি আছে। ছবি থাকলেই তাকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতে হবে? উত্তরে ওসি বলেন, তার পরিবার আমার কাছে এসেছিল। আমি শুনেছি তার ভাইদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। যদি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলে তদন্ত করে বিষয়টি দেখা হবে।

আশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, আমাদের জানামতে, আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পাশেই আমির হোসেন সরকারের বাড়ি। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে কখনোই যুক্ত ছিলেন না। নিজেরা ব্যবসা-বাণিজ্য করে খান। নিরীহ মানুষকে ফাঁসানো কখনোই সমর্থন করি না। এতে সমাজে বৈষম্য ও অবিচারের সংস্কৃতি তৈরি হয়। সাভার থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমির হোসেন সরকারকে কখনোই আওয়ামী লীগ করতে দেখিনি। ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। একসঙ্গে ছবিও থাকতে পারে। তাকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ দেওয়া সমীচীন হবে না।

আমির হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা বলেন, মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমির কেবল পারিবারিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি গোষ্ঠী শুধু আমির হোসেনকে হয়রানি করছে। যোগাযোগ করা হলে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, মিথ্যা মামলায় কাউকে যাতে হয়রানি করা না হয়, সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি আমার গোচরে আসার পর তা নিয়ে অনুসন্ধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে এমারত হোসেন সরকার বলেন, আমার ভাইকে কেন পুলিশ ধরেছে, তা আমার জানা নেই। ২০২১ সাল থেকেই আমি অসুস্থ। আমার ভাইয়ের সঙ্গে একটি জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এর বেশি কিছু মন্তব্য করতে পারব না।

Lading . . .