গণনা শেষ, পাগলা মসজিদের সিন্দুকে মিলল রেকর্ড টাকা
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা গণনা শেষে রাত ৮টায় ১৩টি দানবাক্স থেকে এই টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত।
এর আগে শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় ৪ মাস ১৮ দিন পর কঠোর নিরাপত্তায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। তখন ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। পরে মসজিদের ২য় তলায় মেঝেতে ঢেলে সকাল ৯টায় গণনা শুরু হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
গণনায় ৩৪০ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসনের ১৮ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৩ শিক্ষক ও স্টাফ, ৯ সেনাসদস্য, ৩০ পুলিশ সদস্য, ৫ জন আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্য, ১০ আনসার সদস্য, ১০০ জন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। প্রতিবার তিন মাস পর খেলা হলেও এবার এইচএসসি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কারণে ৪ মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান জানান, এই টাকার লভ্যাংশ বিভিন্ন গরিব অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা, পাগলা মসজিদ পরিচালনার জন্য ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আনসার সদস্যদের বেতন দেওয়া হয়। মসজিদের অধীনে থাকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ বহন করা হয়। মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য যে জায়গা প্রয়োজন তা সংকুলান ছিল। আমরা ইতোমধ্যে ব্যক্তিমালিকানা ১ একর জায়গা ক্রয়ের জন্য ওয়াক্ফ প্রশাসকের কাছে অনুমোদন চেয়েছিলাম। গত মাসে অনুমোদন পেয়েছি। সেই ক্ষেত্রে আমরা কাজ করছি। নকশা চূড়ান্ত অনুমোদন হলে একটি অংশীজন সভা করে সবার সঙ্গে দ্রুত কাজ শুরু করব।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন দানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। ৮ ঘণ্টা গণনা শেষে বিকেল ৫টায় মোট টাকার পরিমাণ জানা যায়। পাগলা মসজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট দানের পরিমাণ ১০২ কোটি ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৩ টাকা রয়েছে।
এখানে দান করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে মুসলমান ছাড়াও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন এ মসজিদে দান করে থাকেন। আর এই জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন দান করতে ছুটে আসেন। শুধু টাকা-পয়সা না এখানে টাকার পাশাপাশি সোনা-রুপার অলঙ্কারসহ বিদেশি মুদ্রাও দান করে থাকেন। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, ফলফলাদি, মোমবাতি ও ধর্মীয় বই দান করে।
এদিকে গত ৪ জুলাই দেশ ও দেশের বাইরে থেকে দান করার জন্য চালু হয়েছে পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের অনলাইন ডোনেশন ওয়েবসাইট। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাগলা মসজিদের প্রচার দিয়ে প্রতারক চক্র বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পাগলা মসজিদে দান করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দেশ ও দেশের বাহিরের অনেকেই দান করতে পারছেন না। তাদের কথা মাথায় রেখে অনলাইন ডোনেশন ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। দান করতে চাইলে www.paglamosque.org সাইটে প্রবেশ করে সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা যাবে।
এছাড়াও ওয়েবসাইটে মসজিদের ইতিহাস, দান সম্পর্কিত তথ্য, নামাজ ও জামাতের সময়সূচি ছাড়াও মসজিদের মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া আছে।