Advertisement

শেরপুরে জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপির ২৪ নেতাকর্মী

যুগান্তর

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

24obnd

শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের একঝাঁক বিএনপি নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ৯ নং চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন বিএনপির ২৪ জন নেতাকর্মী ও সমর্থককে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা।

যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফয়জুর রহমান ফিরোজ। তার উপস্থিতিতেই ইউনিয়ন বিএনপির ২৪ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি খাদিমুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ হোসেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– নকলা পৌর জামায়াতের সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবির, ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

ফয়জুর রহমান ফিরোজ যোগদানকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আপনারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে একটি আদর্শিক ইসলামী দলে যুক্ত হয়েছেন। তবে শুধু যোগদান করলেই চলবে না জামাত ইসলামী দলের আদর্শিক দিকগুলো মেনে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন মুক্তির লক্ষ্যে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে এবং নিজেদের একজন ত্যাগী ও আদর্শিক দায়ী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

জামায়াতে যোগ দেওয়া বিএনপির ২৪ নেতাকর্মীরা হলেন—সোহেল রানা, মো. ইসমাইল, জাহিদুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, মো. মানিকুল, মো. ফারুক, মো. মামুন, মো. হাসান, মো. সাগর মিয়া, নোনা মিয়া, মো. রাকিবুল হাসান, ইবনে আনাজ, শফিকুল ইসলাম, সরাফাত মিয়া, হায়তুলা, মো. সেকান্দর আলী, মুসুদ, রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিক, মিলু মিয়া, মো. সেলিম মিয়া, মো. জাহিদুল ইসলাম এবং মো. মোখন।

যোগদানকারীরা বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক ইসলামী ন্যায় ভিত্তিক দল। দেশের চলমান পরিস্থিতি এবং জামায়াতের দেশপ্রেমমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা পারস্পরিক পরামর্শক্রমে ও স্বপ্রণোদিত হয়ে এই দলে যোগ দিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, জামায়াতের দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বই দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি ।

তারা আরও বলেন, আজকের বাস্তবতায় জামায়াতই একমাত্র নিরাপদ রাজনৈতিক দল, যা দেশের সকল নাগরিকদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

যোগদান প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নকলা উপজেলা আমীর গোলাম সারোয়ার জানান , যারা যোগদান করেছেন, তারা কয়েক মাস আগে থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের প্রাথমিক কিছু বই দেওয়া হয়েছিল। তারা সেগুলো অধ্যয়ন করে জামায়াতের গঠনতন্ত্র ও কার্যক্রম ভালোভাবে জেনেছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই তাদের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সংগঠন কাঠামোতে ধাপে ধাপে সদস্যপদ দেওয়া হয়। প্রথমে সহযোগী সদস্য, তারপর কর্মী এবং সর্বশেষ রোকন বা পূর্ণ সদস্য। এই ২৪ জন বর্তমানে প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দিয়েছেন। তারা কর্মী হওয়ার জন্য প্রয়োজনী নিয়মাবলী অনুসরণ করে ধাপে ধাপে উন্নীত হবেন দলের সহকর্মী হিসেবে। তবে যোগদানের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খোরশেদুর রহমান যোগদানের বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘যারা যোগদান করেছেন তারা কোনো নেতা নয়। তাদেরকে কখনোই আমরা নকলা উপজেলার বিএনপির কোনো অনুষ্ঠানে দেখতে পাইনি। এরকম কর্মী দল থেকে চলে গেলে বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে না। বিএনপি একটি বৃহৎ দল।কর্মী আসবে যাবে এটা একটি নিয়মিত ব্যাপার।

আরও পড়ুন

Lading . . .