Advertisement

১১ বছর পর নেত্রকোনা বিএনপির সম্মেলন শনিবার, দুই পদে লড়ছেন ৫ প্রার্থী

যুগান্তর

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

বিএনপির সম্মেলন উপলক্ষে রাস্তার পাশে সাজানো হচ্ছে। ছবি: যুগান্তর
বিএনপির সম্মেলন উপলক্ষে রাস্তার পাশে সাজানো হচ্ছে। ছবি: যুগান্তর

১১ বছর পর নেত্রকোনা জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে আগামীকাল শনিবার। শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১০টি উপজেলা ও পাঁচটি পৌর কমিটির ১ হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলরের ভোটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি পদে নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ কারা পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। সম্মেলন ঘিরে শহরের মোক্তারপাড়া, কুড়পাড় ও ছোটবাজারসহ পুরো শহরের এলাকাজুড়ে প্রার্থীদের ছবি সংবলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর নেত্রকোনা জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাউন্সিলরদের ভোটে সভাপতি পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক পদে চিকিৎসক আনোয়ারুল হক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এসএম মনিরুজ্জামান দুদু নির্বাচিত হন।

সম্মেলনের প্রায় দেড় বছর পর ২০১৬ সালের ৮ মার্চ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯২ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন।

২০১৯ সালে ৬ আগস্ট মেয়াদোর্ত্তীণ কমিটি বিলুপ্ত করে দেয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। পরে ৬৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এতে আহ্বায়ক ডা. আনোয়ারুল হককে এবং সদস্য সচিব করা হয় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীকে। এ আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলে ছয় বছর। দীর্ঘ সময়েও তারা সম্মেলন বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি।

১১ বছর পর আগামীকাল শনিবার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশীরা হলেন, জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা . আনোয়ারুল হক ( ছাতা ) ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক ( চেয়ার )।

সাধারণ সম্পাদক পদে কমিটির বর্তমান সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী ( মাছ ), জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম মনিরুজ্জামান দুদু ( ফুটবল ) ও জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি ( গরুর গাড়ি ) প্রতীকে লড়ছেন

সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

সম্মেলন ও কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সহকারী নির্বাচন কমিশনার আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে দুটি পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। মোক্তারপাড়া মাঠে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলন সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সম্মেলন নিয়ে জেলা বিএনপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জেলা শহর ছাড়াও উপজেলা সদরের মোড়ে মোড়ে সম্মেলন নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, সমঝোতা করে কমিটি করতে পারলে ভালো হতো। তবে যেহেতু সমঝোতা করা যায়নি, ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হচ্ছে। এ ধরনের গণতান্ত্রিক চর্চা থাকা ভালো।

সভাপতি প্রার্থী আনোয়ারুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। সর্বশেষ দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে আমি ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমি আশাবাদী কাউন্সিলররা এবারো আমাকে বিজয়ী করবেন।

আরেক সভাপতি প্রার্থী আইনজীবী মাহফুজুল হক বলেন, আমি জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। সব সময় দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আইনজীবী হিসেবে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নেতাকর্মীদের সব ধরনের আইনি সহায়তা করেছি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। তবে জেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে কালো টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাহফুজুল হকের অভিযোগ, বর্তমান আহ্বায়ক সময় মতো কাউন্সিলরদের তালিকা দেননি। তারা তাদের পছন্দ মতো সরকারি চাকরিজীবীসহ আওয়ামী লীগের দোসরদের উপজেলা কমিটিতে যুক্ত করেছেন।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে ১৯৮৪ সালে কলেজ জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সভাপতি থেকে শুরু করে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম।

তিনি বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব। বিগত সময় আমি দলের জন্য দলকে সুসংগঠিত করার জন্য কী পরিমাণ আন্দোলন সংগ্রাম করেছি তা সবারই জানা। সুখে-দুঃখে তাদের পাশেই ছিলাম। কেন্দ্রীয় সব কর্মসূচিই বাস্তবায়ন করেছি।

হিলালী বলেন, আমাকে রাজনৈতিক ৫৬টি মামলার আসামি করা হয়। আশা করি, কাউন্সিলর যারা আছেন তারা আমাকে নিরাশ করবেন না-এটা আমার বিশ্বাস। গত বছরের ৫ আগস্টের পর দলে মৌসুমী কোকিলদের আনাগোনা বেড়েছে। আশা করছি-কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবেন।

একই পদের প্রার্থী এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, আমি আপদে বিপদে সব সময় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। আন্দোলন করতে গিয়ে অসংখ্যবার জেল খেটেছি। পরিশ্রমী নেতা ও দুর্দিনের নেতা হিসেবে সবাই আমাকে জানেন। মানুষের ভালোবাসাই আমার সম্পদ। কেউ ঢাকা থেকে, কেন্দুয়া থেকে দলের দায়িত্ব পালন করতে চায়। আমার বাসা জেলা শহরে। আমি নেতাকর্মীদের বিপদে আপদে পাশে ছিলাম। আশা করছি-আমাকে মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের কাউন্সিলে যেমন আমাকে বিপুল ভোটে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করেন, আশা করি এবারও আমাকে সাধারণ সম্পাদক জয়যুক্ত করবেন তারা।

আরেক প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি বলেন, তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায়ে সবার পরামর্শে আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি দুর্দিনে শেখ হাসিনা যে ফ্যাসিস্ট সরকার ছিল আন্দোলনে তখন আমি বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলাম। বুলেট আমার বুকের পাশ দিয়ে গিয়েছিল। আমার দলীয় নেতৃবৃন্দের কণ্ঠস্বর হয়ে যেন বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকতে পারি-সেই প্রত্যাশা নিয়ে আগামী দিনে একটা সুন্দর নেতৃত্ব আসবে।

Lading . . .