‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ এবার নিবন্ধন বেড়েছে ১৫ লাখ
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

সভার উপলক্ষ ছিল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে যাঁর আমন্ত্রণে আজ বিকেলের এ আয়োজন, সেই যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সূচনা বক্তব্যে প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’র দ্বিতীয় আসর সম্পর্কে বিস্তারিত জানালেন।
কথোপকথনের দিকে গড়ানো আলোচনাটি ক্রমেই ব্যানারে প্রদর্শিত নির্দিষ্ট বিষয় ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে ক্রীড়াঙ্গনের নানা শাখা–প্রশাখায়। যেটি অবচেতনে একটি প্রশ্নও তুলে দেয়—‘নতুন কুঁড়ি’রা বড় হবে কোন পথে?
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ নিয়ে এবার গতবারের চেয়েও অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছেন বলে আমিনুল খুশি। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা স্টেডিয়ামে প্রজেক্টরের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’র দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম আসরে ১ লাখ ৬৮ হাজার কিশোর–কিশোরী নিবন্ধন করলেও এবার সংখ্যাটা ১৬ লাখ ২৩ হাজার, যার মধ্যে ৬ লাখের বেশি কিশোরী। অর্থাৎ, প্রায় ১৫ লাখ নিবন্ধন বেড়েছে এবার।
১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর–কিশোরীদের এই প্রতিভা অন্বেষণে গতবারের ৮টি খেলার সঙ্গে এবার যোগ হবে টেবিল টেনিস ও ভলিবল। প্রথমবারের মতো এবারও বাছাইকৃতদের মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বিকেএসপির বিভিন্ন শাখায় ভর্তি করানো হবে।
এ জন্য ঢাকার বাইরের বিকেএসপিগুলোকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা হবে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং আশা করছি, অন্য বিকেএসপিগুলোকে আমরা কীভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারি, সেটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আপনাদের সামনে দৃশ্যমান হবে।’
বিকেএসপিতে ভর্তি হবে যেসব কিশোর–কিশোরী, তাদের সব খরচ বহন করবে সরকার। গতবারের আসর থেকে নির্বাচিত ৩১০ জন কিশোর–কিশোরী এরই মধ্যে সাভার বিকেএসপিতে ৪০ দিনের অনুশীলন শুরু করেছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের আশা, ‘এই প্রোগ্রাম ধারাবাহিকভাবে করতে পারলে আগামী ৩–৪–৫ বছরে পাইপলাইনে অনেক নতুন খেলোয়াড় চলে আসবে।’
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ গতবার উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হলেও এবার তা শুরু হবে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়ন থেকে। তারপর উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও ফাইনাল পর্ব। আগামী এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের প্রথম দিকে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্ব।
প্রসঙ্গক্রমে আলোচনা চলে গেছে সরকারের ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে মাঠ তৈরির উদ্যোগ, উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ এবং স্থানীয় খেলাধুলায় জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার ভূমিকাকে আরও কার্যকর করে তোলার প্রসঙ্গেও। জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তারা আগে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিস করলেও এখন তাঁদের কর্মস্থল জেলা স্টেডিয়ামগুলোয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ তৈরি প্রসঙ্গে আমিনুল জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ৩৫টি জেলার ৪৯৯টি ইউনিয়নে মাঠ পাওয়া গেছে। সরকার থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করার নির্দেশনা রয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ করার লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে।
কিন্তু যে অবকাঠামো এবং পরিকল্পনার ওপর ভর করে আজকের শিশু–কিশোরদের ভবিষ্যতের ক্রীড়াবিদ বানানোর স্বপ্ন, সেটি কতটা নির্ভরযোগ্য? মতবিনিময় সভায় যেমন প্রশ্ন উঠেছে বিকেএসপির সামর্থ্য নিয়েও। বেশ কয়েক বছর ধরে যে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় সরবরাহ করতে পারছে না, তারা কি পারবে ‘নতুন কুঁড়ি’দের সুষম বিকাশ করতে? বিকেএসপির কোচ নিয়োগের নামে তো নাকি এখন সংশ্লিষ্টদের আত্মীয়স্বজনদের ‘পুনর্বাসন’ই বেশি হয়! আমিনুল এসবের জবাবে জানিয়েছেন, বিষয়গুলো তাঁরও অজানা নয়। সমস্যা সমাধানে বিকেএসপির সঙ্গে তিনি আলাপ–আলোচনা শুরু করেছেন।
দেশের বেশির ভাগ জেলা–উপজেলায় নিয়মিত খেলা না হওয়ার অভিযোগ পুরোনো। এ ক্ষেত্রে অবশ্য বাজেটও একটা সমস্যা। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, যে বাজেট তাদের দেওয়া হয়, সেটি দিয়ে বড়জোর চা–নাশতা খাওয়া যায়। এবার এর একটা সমাধান ভেবেছে সরকার। সারা দেশের খেলাধুলার জন্য বড় অঙ্কের প্রাথমিক একটি তহবিল দেবে সরকার, যেটি ব্যাংকে রেখে তা থেকে পাওয়া মুনাফা ভাগ করে দেওয়া হবে ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের খেলাধুলার জন্য পৃষ্ঠপোষক জোগাড়েও চেষ্টা করা হবে।
সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানগুলো কাজে লাগলেই কেবল ‘নতুন কুঁড়ি’রা পাবে সঠিক পথের দেখা।
আরও পড়ুন


