রাধারমণ দত্তের প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান কবরস্থানের পাশে না করতে ইউএনওকে চিঠি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ধামাইল গানের প্রবর্তক রাধারমণ দত্তের প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান এলাকার কবরস্থানের পাশে না করতে আবেদন করেছেন স্থানীয় ‘কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন’ নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা। গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে তাঁরা চিঠি দেন।
ওই চিঠিতে তাঁরা গান-বাজনাকে অনৈসলামিক বলে উল্লেখ করে অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি করেছেন। বৈষ্ণবকবি রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থল–সংলগ্ন এলাকায় গানবাজনা বন্ধের দাবির কথাও আবেদনে বলা হয়েছে।
উপজেলার কেশবপুর গ্রামে রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থল। বিগত সময়ে গ্রামের বাজারের পাশের খোলা মাঠে তাঁর প্রয়াণদিবস উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।
তবে এই আবেদনের সঙ্গে রাধারমণ দত্তের প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইউএনও ইসলাম উদ্দীন। আজ বুধবার রাত আটটায় মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিবছর ৯ ও ১০ নভেম্বর রাধারমণ দত্তের প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান হয়। গত বছরও সেটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে হয়েছে। এ জন্য একটি কমিটিও আছে। এবার এ বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য ১ নভেম্বর সভা আহ্বান করা হয়েছে। এখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সব ধর্ম ও মতের মানুষ থাকবেন।
ইউএনও জানান, আবেদনকারীরা বলেছেন, রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থল এলাকায় কবরস্থান রয়েছে। সেখানে যেন অনুষ্ঠানটি না হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কেশবপুর বাজার–সংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় মরমি সাধক রাধারমণ দত্তের নাম ব্যবহার করে গানবাজনাসংশ্লিষ্ট ‘অনৈসলামিক’ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। জনস্বার্থে এ কার্যক্রম বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ওই চিঠিতে কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদির, রফিক মিয়া, মো. তৈমুর আলী, আনকার, খালেদ, সোহেল, মো. রফিকুল, জাহাঙ্গীর, আবু মিয়া, মো. রফিক আলী, দিলা মিয়া, ওয়াহিদ, ইকবাল, আবু তাহের, আওলাদ ও তারেক মিয়াসহ ২৩ জন স্বাক্ষর করেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জানান, ‘কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন’ মাস তিনেক আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাঁরা কেউ রাজনীতি করেন না।
ওই গ্রামের একজন বাসিন্দা জানান, রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থলের পাশে কবরস্থান রয়েছে, এটি ঠিক। তবে আগেও সেখানে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সেখানে আর অনুষ্ঠান হয়নি।
আবেদনকারীদের একজন আবদুল কাদির মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারের পাশে যেখানে অনুষ্ঠান হয়, সেখানে কবরস্থান ও এক মসজিদ রয়েছে। আমরা শুনছি, এবারও অনুষ্ঠান হবে, তাই এই স্থানে যেন না হয় এ জন্য আমরা আবেদন করেছি।’


