Advertisement

জাপানের বুকে 'রেলওয়ে পার্কে' অতীত যাত্রা ও ভবিষ্যতের স্পর্শ | দৈনিক সংগ্রাম

দৈনিক সংগ্রাম

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

24obnd

কামরুজ্জামান হিরু, নাগোয়া (জাপান) থেকে

গতি, নিখুঁত সময়ানুবর্তিতা আর সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অনন্য মেলবন্ধনে বিশ্বের বুকে এক নতুন বিস্ময় জাপান। সেই দ্রুতগতির রেল প্রযুক্তির জন্মকাহিনি, বিবর্তন এবং ভবিষ্যতের চমকপ্রদ অগ্রযাত্রাকে চোখের সামনে জীবন্ত করে রাখতে দেশটির নাগোয়া শহরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ জাদুঘর 'এসসিম্যাগলেভ অ্যান্ড রেলওয়ে পার্ক'। বর্তমানে এশিয়ান গেমস কভারেজের দায়িত্বে নাগোয়া শহরে অবস্থানের সুযোগে আয়োজক কমিটির বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের জন্য এই চমৎকার প্রজেক্টটি ঘুরে দেখার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে গিয়ে স্বচক্ষে দেখার সুযোগ মেলে জাপানের ট্রেন প্রযুক্তির ঐতিহাসিক সব অর্জন ও গতিসীমা ভেঙে বিশ্বরেকর্ড গড়ার ইতিহাস। পার্কটিতে সংরক্ষিত রয়েছে শতাব্দীর সেরা বেশ কয়েকটি বিশ্বরেকর্ড গড়া ট্রেনের আসল ইঞ্জিন ও মডেল। ১৯৫৪ সালে তৎকালীন সংকীর্ণ রেললাইনে ঘণ্টায় ১২৯ কিলোমিটার গতি তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল 'ক্লাস সি-সিক্সটিটু স্টিম লোকোমোটিভ' নামের বাষ্পীয় ইঞ্জিনটি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে ঘণ্টায় ৪৪৩ কিলোমিটার গতিবেগ অর্জন করে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ট্রেনের গতির বিশ্বরেকর্ড নিজেদের দখলে নেয় '৩০০ এক্স শিঙ্কানসেন' (ক্লাস ৯৫৫)। গতি জয়ের এই গৌরবময় যাত্রার সর্বাধুনিক রূপ হিসেবে ২০০৩ সালে ইয়ামানাসি ম্যাগলেভ টেস্ট লাইনে ঘণ্টায় ৫৮১ কিলোমিটার গতি তুলে তৎকালীন বিশ্বের দ্রুততম ট্রেনের খেতাব ছিনিয়ে নিয়েছিল 'এমএলএক্স০১-১ সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগলেভ' ট্রেনটি।

পার্কের ভেতরে কেবল পুরনো ও আধুনিক ট্রেন সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রেখে দায়িত্ব শেষ করা হয় নি, দর্শনার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে রাখা হয়েছে সর্বাধুনিক 'ট্রেন চালনা নির্দেশক যন্ত্র' বা সিমুলেটর। আয়োজক কমিটির চমৎকার সহযোগিতায় একদম চালকের আসনে বসে কাল্পনিক পথ ও দারুণ গতিতে ট্রেন চালানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি সুবিশাল মডেল প্রদর্শনী বা ডায়োরামার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত স্কেলে পুরো টোকাইডো শিঙ্কানসেন লাইন ও জাপানের দৈনন্দিন রেল চলাচলের এক অপরূপ খুদে রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

প্রযুক্তি প্রদর্শনী ছাড়াও দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে জাপানি খাবার ও সংস্কৃতির সান্নিধ্য। বিশেষ লাঞ্চ বক্স 'প্লুস্টা বেনতো' ও স্থানীয় কফির স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি জাদুঘরের নিজস্ব দোকান থেকে কেনা যাচ্ছে ট্রেনের ছোট খেলনা মডেল, স্মারক ও নানাবিধ জিনিসপত্র। নাগোয়ার মিনাতো-কু এলাকায় অবস্থিত এই কেন্দ্রটি অতীতের বাষ্পীয় ইঞ্জিন থেকে শুরু করে শূন্যে ভেসে থাকা চুম্বকীয় 'ম্যাগলেভ' ট্রেনের এক দুর্দান্ত সেতুবন্ধন। এশিয়ান গেমসের ব্যস্ততার মাঝে আয়োজকদের পরিচালিত এই বিশেষ সফরটি জাপানের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে কাছ থেকে জানার এক অবিস্মরণীয় মাধ্যম হয়ে থাকল।

আরও পড়ুন

Lading . . .