দাঁত স্কেলিং কী, কেন করা হয়, না করালেই–বা কী হয়
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৫

সহজভাবে বলতে গেলে স্কেলিং হলো গভীরভাবে দাঁত পরিষ্কার করার পদ্ধতি। দাঁতের গোড়ার কাছে যে পাথর ও ব্যাকটেরিয়া জমা হয়, তা পরিষ্কার করা হয় স্কেলিংয়ের মাধ্যমে। দন্তচিকিৎসকেরা মাড়ির কিছু রোগে স্কেলিংয়ের পরামর্শ দেন। আদতে স্কেলিং করালে কী হয়, আর না করালেই–বা কী হয়?
স্কেলিং কোনো শল্যচিকিৎসা নয়। এখানে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে দাঁত পরিষ্কার করার কাজটা করা হয়। মাড়ির মৃদু ও মাঝারি তীব্রতার বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা হিসেবেও করা হয় স্কেলিং।
সুন্দরভাবে স্কেলিং করাতে একটু সময় লাগতে পারে। বিশেষত দাঁতে জমা ময়লা বা পাথরের পরিমাণ বেশি হলে সময়টা বেশি লেগে যেতে পারে। তাই কিছুটা বাড়তি সময় হাতে নিয়েই যাওয়া উচিত এ কাজে।
স্কেলিং করালে বেশ কিছু সমস্যা মিটে যায়। তবে স্কেলিং করানোর পরও কিন্তু দাঁত ও মাড়ির প্রতি যত্নশীল থাকা প্রয়োজন, যাতে দ্রুতই আবার স্কেলিং করানোর প্রয়োজন না পড়ে। একবার স্কেলিং করানোর কত দিন পর পুনরায় স্কেলিং করানোর প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়টি দন্তবিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নেবেন।
স্কেলিং করালে দাঁতে জমা হওয়া ময়লা ও পাথর পরিষ্কার হয়ে যায়।
মাড়ি ব্যথা ও মাড়ি থেকে রক্ত পড়া নিরাময় হয়।
মাড়ির ক্ষয় এড়ানো সম্ভব হয়।
মুখের কোথাও ময়লা জমা হওয়ার অর্থই হলো তা বহু ব্যাকটেরিয়ার আস্তানা হয়ে ওঠা। ব্যাকটেরিয়ার কারণে স্বাস্থ্যের অন্যান্য ক্ষতি তো হয়ই, সবচেয়ে বিব্রতকর ব্যাপার যেটা ঘটে, তা হলো মুখে বেশ দুর্গন্ধ হয়। স্কেলিং করালে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় কমে যায়, দুর্গন্ধও কমে আসে। দাঁত দেখায়ও সুন্দর।
স্কেলিং করানোর পর মাড়ি থেকে কিছুটা রক্ত পড়তে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই। দিন দুয়েক একটু ব্যথাও থাকতে পারে। কয়েকটা দিন একটু অস্বস্তিকর অনুভূতি হতে পারে।
স্কেলিং করানোর আগে মাড়ি ফোলা থাকলে এই ফোলা ভাবটা কমে যায়। তাই হঠাৎ আপনার মনে হতে পারে, দাঁতের গোড়াটা একটু বেশি দেখা যাচ্ছে।
কারও কারও ক্ষেত্রে স্কেলিং করানোর পর ঠান্ডা বা গরম খাবার খাওয়ার সময় কিছুটা সমস্যা হতে পারে, যাকে বলা হয় অতিসংবেদনশীলতা। সর্বোচ্চ মাস দুয়েকের মধ্যে তা সেরে যায়।
আপনার স্কেলিং করানো প্রয়োজন কি না, সে নির্দেশনা দেবেন একজন দন্তবিশেষজ্ঞ। যে সমস্যার জন্য আপনার স্কেলিং করানো প্রয়োজন, স্কেলিং না করালে তা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। বাড়তে পারে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি। ব্যথা ও দুর্গন্ধ তো হতেই পারে। এমনকি দাঁত পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।
সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক