দেনায় জর্জরিত, বন্ধ হয়ে যাবে একাধিক ক্লাব? ভয়ঙ্কর ছবি ইংলিশ ফুটবলে
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের উন্নতির উদাহরণ টানতে গেলে ইংলিশ ফুটবলের নাম সবার আগে আসবে। টাকা, গ্ল্যামারের দিক থেকে বিচার করলে সবার আগে আসবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু সেই চোখধাঁধানো আলো আর গ্ল্যামারের নিচে জমে রয়েছে অন্ধকার। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল পিরামিড এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক আর্থিক খাদের কিনারায়। সে দেশের সরকারের অনুমোদিত ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার ‘স্টেট অফ দ্য গেম’ রিপোর্টে এই ছবি সামনে এসেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ মরশুমে প্রিমিয়ার লিগের বাণিজ্যিক জনপ্রিয়তার কারণে ইংলিশ ফুটবলের সামগ্রিক আয় দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ৯০০ কোটি পাউন্ডে। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের এই বিপুল আয় হলেও ইংল্যান্ডের শীর্ষ পাঁচ স্তরের পেশাদার লিগের প্রায় ৯৪ শতাংশ ক্লাবই পুরো মরশুমে লোকসানের মুখ দেখেছে।
ইংলিশ ফুটবল মানে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ
IFR-এর তদন্তে দেখা গিয়েছে, ইংলিশ ফুটবল এখন অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে। ক্লাবগুলোর আয় ধীরে ধীরে কমছে, ফলে ক্লাবগুলো নিজেদের আয়ে আর চলতে পারছে না। আর এতেই বাড়ছে মালিকদের অর্থের জোগানের ওপর নির্ভরশীলতা। সমীক্ষায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্লাব স্বীকার করেছে, মালিকরা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিলে ৯০ দিনের বেশি কোনও ক্লাব চলতে পারবে না।
দ্বিতীয় সারির টুর্নামেন্ট ‘চ্যাম্পিয়নশিপ’, এবং তৃতীয় ও চতুর্থ সারির ‘লিগ ওয়ান’ ও ‘লিগ টু’-র ক্লাবগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রিমিয়ার লিগে ওঠার টিকিটের পেছনে ছুটতে গিয়ে ক্লাবগুলো আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে খরচ করতে পারেনি। এর ফলে তৈরি হয়েছে দেনা। ইতিমধ্যেই এই দেনার দায়ে ২০১৯ সালে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বুরি এবং ২০২০ সালে হারিয়ে যায় ম্যাকলসফিল্ড টাউন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম আর্থিক বিপর্যয়ে পড়ে পয়েন্ট কাটা ও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে শেফিল্ড ওয়েনসডে, ডার্বি কাউন্টি, রিডিং ও উইগানের মতো ক্লাবগুলো।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রিমিয়ার লিগ ও ইংলিশ ফুটবল লিগকে (EFL) অবিলম্বে একটি রাজস্ব বণ্টন চুক্তিতে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংস্থার পক্ষ থেকে। প্রিমিয়ার লিগ আগামী ১০ বছরে নিচের সারির ক্লাবগুলোর জন্য অনুদান দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিলেও এখনও তা চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৭ সালের শুরুতে তা চূড়ান্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এটা যদি না হয়, তা হলে অচিরেই ইংল্যান্ড আরও ক্লাব বন্ধের দিকে পা বাড়াবে।


