পজ়িশন বদলে প্রথম হ্যাটট্রিক, মোহনবাগানে এসে জেজের স্মৃতি ফেরাচ্ছেন ছাংতে
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মুম্বই সিটি এফসি থেকে এই মরশুমেই মোহনবাগানে যোগ দিয়েছেন তিনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কলকাতার এই ক্লাবের হয়ে কতটা সফল হবেন। সব প্রশ্নের উত্তর যেন বুধবার বিকেলে বৃষ্টিভেজা মোহনবাগান মাঠে দিলেন লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে। IFA শিল্ডের প্রথম ম্যাচে শ্রীনিধি ডেকান এফসিকে ৬-০ গোলে হারাল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করলেন ছাংতে। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোলও করালেন। আর ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে এটাই প্রথম হ্যাটট্রিক ছাংতের। আর এই এক দিনেই যেন মোহন-জনতার নয়নের মণি হয়ে উঠেছেন তিনি। মাঠ ছেড়ে বেরোনোর সময়ে ছাংতেকে নিয়ে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ঠিক যেন জেজে লালপেখলুয়ার স্মৃতি ফেরাচ্ছেন তিনি।
ছাংতের দুরন্ত পারফরম্যান্স
প্রথম থেকেই প্রান্ত বদল করে ভালো ছন্দে খেলছিলেন ছাংতে। দুই উইং দিয়ে দ্রুত গতিতে আক্রমণে উঠে বিপক্ষ বক্সে হানা দেন। প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে স্কোরশিটে নাম তোলেন। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮ মিনিটের মধ্যে দু’গোল করে সম্পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। শেষে তাঁর ক্রস থেকেই গোল করেন লি এরউইন। এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পরে ছাংতেকে নিয়ে মোহনবাগান সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। ম্যাচের পরে প্রেস মিটে এসে এই নিয়ে মুখ খুললেন ছাংতে।
পজ়িশন বদলে প্রথম হ্যাটট্রিক ছাংতের
এতদিন মূলত উইঙ্গার হিসেবে খেললেও বুধবার উইং-ব্যাক হিসেবে খেলেছেন ছাংতে। তবে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ তিনি। বললেন, ‘মাঠে কোথায় খেলছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাই।’ এর পাশাপাশি প্রথম হ্যাটট্রিক করে খুশি তিনি। এর জন্য কৃতিত্ব দিলেন সমর্থকদের।
বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেও যে ভাবে সমর্থকরা গলা ফাটিয়েছেন দলের জন্য, তা ভালো পারফর্ম করার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানালেন ছাংতে। তবে কলকাতায় সমর্থকদের ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা এবং আবেগ অনেকটাই বেশি, তা স্বীকার করলেন এই তারকা ফুটবলার।
জেজের স্মৃতি ফেরাচ্ছেন ছাংতে?
এই হ্যাটট্রিকের পরে চর্চা চলছে জেজে লালপেখলুয়াকে নিয়ে। ২০১৪ সালে তিনি যোগ দেন মোহনবাগানে। তিন মরশুম কাটিয়ে হয়ে ওঠেন হার্টথ্রব। আই লিগ, ফেডারেশন কাপ জয় এবং AFC কাপে বড় ভূমিকা নেন তিনি। এ বার ছাংতেকে নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা। এই বিষয়ে মুখ খুললেন ছাংতে নিজেই।
প্রেস মিটে বললেন, ‘জেজে বর্তমানে বিধায়ক হওয়ায় বেশ ব্যস্ত, তাই সম্প্রতি কথা হয়নি। তবে ছোটবেলা থেকেই জেজেকে আদর্শ মানি আমি। সব সময় আমাকে কঠোর পরিশ্রম করা, ঈশ্বরের উপরে ভরসা রাখা এবং ইতিবাচক থাকার পরামর্শ দেন উনি।’


