গোল নষ্টের প্রদর্শনী, আল সিবের কাছে হেরে লাস্ট বয় ইস্টবেঙ্গল
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর, ২০২৬

ফুটবলের সহ সব খেলায় একটা নিয়ম রয়েছে। পরিসংখ্যান যাই-ই হোক না কেন, ফলই আসল। ACL ২-তে ইস্টবেঙ্গল বনাম আল সিব ম্যাচে যেন সেই কথাটা ফের প্রমাণ হলো। গোটা ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল দাপট, পরিসংখ্যানের দিক থেকে এগিয়ে থেকেও গোল করতে না পারায় ঘরের মাঠে হারতে হলো। ম্যাচের ফল আল সিবের পক্ষে ২-০। গোলদাতা অ্যাক্সেস মেয়ে ও জ়াহির সুলেমান আল আঘবারি।
আগ্রাসী মেজাজে শুরু ইস্টবেঙ্গলের
‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে যে আগ্রাসী মেজাজে শুরু করার দরকার ছিল, যুবভারতীর ১১,৭৩৫ জন দর্শকের সামনে সেই ছন্দেই খেলা শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। ওমানের ক্লাব আল সিবের বিরুদ্ধে প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণ শানিয়ে প্রতিপক্ষকে তাদের অর্ধে বন্দি করে রেখেছিলেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। কিন্তু ফুটবল যে কেবল সুযোগ তৈরি নয়, সেই নির্মম সত্যের কাছেই আরও একবার হার মানতে হলো আন্তোনিও লোপেজ় হাবাসের দলকে। একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্টের করুণ খেসারত দিতে হলো। আর এই হারের সঙ্গে AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর নকআউটে পৌঁছনোর স্বপ্ন কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেল লাল-হলুদের। গ্রুপ D-তে একটিও ম্যাচ না জিতে ইস্টবেঙ্গল শেষে চলে গেল।
ম্যাচের শুরু থেকেই উইং ব্যবহার করে বারবার ওমানের ক্লাবের ডিফেন্সে চিড় ধরান এডমুন্ড লালরিন্ডিকা ও বিপিন সিং। ৪ মিনিটে এডমুন্ডের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর ১০ মিনিটে দূরপাল্লার শট বাইরে মারেন দানি রামিরেজ়। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল ২০ মিনিটের মাথায়। মাঝমাঠ থেকে ভেসে আসা ক্রসে এডমুন্ডের শট গোলরক্ষক ফেরালে ফিরতি বলে বিপিন পোস্টের সামনে গোলমুখী ক্রস বাড়ান ফাঁকায় থাকা মহম্মদ রশিদকে। গোললাইন থেকে মাত্র এক হাত দূরে দাঁড়িয়েও অবিশ্বাস্যভাবে হেড পোস্টের বাইরে মারেন প্যালেস্তিনীয় অধিনায়ক। ৩৩ মিনিটেও গোলরক্ষককে একা পেয়ে দুর্বল শট নেন রামিরেজ়।
চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন আনোয়ার আলি
এর মাঝেই ১৭ মিনিটে লাল-হলুদ শিবিরের জন্য নেমে আসে বিপর্যয়। হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করে মাঠ ছাড়েন দলের রক্ষণভাগের মূল ভরসা আনোয়ার আলি। তাঁর জায়গায় নামেন সন্দীপ মান্ডি। টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তির প্রভাব আনোয়ারের পেশিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্রনাট্য বজায় ছিল। ৬০ মিনিটে ডেভিড ও জিকশনকে তুলে যথাক্রমে একে লোবা ও রোহিত কুমারকে নামান হাবাস। ৬১ মিনিটে দানির দুর্দান্ত আউটস্টেপ শট বিশ্বমানের দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান আল সিবের গোলকিপার ইব্রাহিম সালেহ। ৭১ মিনিটে লুকাজ় জ়লনস্কি ও হার্দিক ভাটকে নামিয়ে অল-আউট আক্রমণের ঝুঁকি নেন স্প্যানিশ বস।
রক্ষণের ভুলে গোল হজম
তবে আক্রমণের সেই ঝড়ে রক্ষণের ফাঁকফোকর উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ৭৬ মিনিটে ওমের আল মালকির শট ফুরবা লাচেনপা অতিমানবীয় দক্ষতায় না বাঁচালে তখনই পিছিয়ে পড়ত দল। কিন্তু ৮৫ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। হাসান আল আজমির পাস থেকে বক্সের সামনে জায়গা পেয়ে নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে দেন আল সিবের ফরোয়ার্ড অ্যাক্সেল মেয়ে (১-০)। গোলের ধাক্কা সামলে ইস্টবেঙ্গল যখন সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে বক্সে ওঠে, তখনই সংযুক্ত সময়ে (৯০+১ মিনিট) মাঝমাঠ থেকে প্রতি-আক্রমণ গড়ে তোলেন মেয়ে। তাঁর বাড়ানো পাস পেয়ে ফাঁকা অর্ধে একাই বল টেনে নিয়ে গিয়ে লাচেনপাকে পরাস্ত করেন পরিবর্ত হিসেবে নামা আল আঘবারি (২-০)।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই মাথায় হাত দিয়ে মাঠে বসে পড়েন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। টানা চার ম্যাচ শেষেও জয় অধরা থাকায় এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ থেকে লাল-হলুদের বিদায় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।


