IFA নির্বাচনে জোর বিতর্ক, অনির্বাণের পাশে ময়দান
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর, ২০২৬

কে হবেন আইএফএ-র নতুন প্রেসিডেন্ট? নতুন কেউ, নাকি অনির্বাণ দত্ত-ই সচিব থেকে হবেন প্রেসিডেন্ট? নতুন ক্রীড়ানীতিতে প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকবে যাবতীয় ক্ষমতা।
এতদিন পর্যন্ত কার্যত বিনা বাধায় এগিয়ে ছিলেন অনির্বাণ। কিন্তু, আচমকাই কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, এই মুহর্তে নির্বাচনের ব্যাপারে কোনও কার্যকলাপ করতে বারণ করা হয়েছে। যা নিয়ে ধোঁয়াশার সঙ্গে বিতর্কও দেখা দিয়েছে।
প্রথমে ঠিক ছিল, ৪ নভেম্বর হবে আইএফএর নির্বাচন। তা পিছিয়ে ১৪ নভেম্বর করা হয়। এখন সেটাও অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, অপেক্ষার মেয়াদ মাস দু’য়েক হতে পারে।
এর ফলে বাংলার ফুটবল বড় সমস্যায় পড়ে যেতে পারে। কারণ, ১৪ নভেম্বরের মধ্যে ভোট না হলে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনে আইএফএ তার ভোটাধিকার হারাবে। কোনও প্রতিনিধি রাখতে পারবে না। এর ফলে এআইএফএফ যে বিশাল অঙ্কের অনুদান দিত, তা আর পাবে না আইএফএ। তখন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলার ফুটবল।
ঘটনা যাই হোক না কেন, কলকাতা ময়দান কিন্তু পুরোপুরি অনির্বাণ দত্ত-র পাশেই রয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের দাবি, ভোট হলে তিনি বিশাল ব্যবধানে জিতবেন, এ নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই।
বুধবার কলকাতার সুবর্ণ বণিক সভাঘরে আলোচনায় বসেছিলেন আইএফএ অনুমোদিত সকল সংস্থার কর্তারা। সেখানে প্রায় সবাই একযোগে বলে যান, তাঁরা অনির্বাণের পাশে আছেন। এই অবস্থায় যদি জোর করে বাইরে থেকে নির্বাচনে প্রভাব ফেলা হয়, ময়দানে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক অভিজ্ঞ ময়দানী কর্তা।
আইএফএ সচিব হিসেবে অনির্বাণ দত্ত যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর আমলে একাধিক ভালো কাজ হয়েছে, যা আইএফএকে শক্তিশালী করেছে, এমনটাও মনে করছে ময়দানের একটা বড় অংশ।
কয়েকটি কাজের উদাহরণ তুলে ধরেছেন ময়দানের পোড় খাওয়া কর্তারা। যেমন-
আইএফএ শিল্ডের পুনরুজ্জীবন: চার বছরের বিরতির পর ২০২৫ সালে ঐতিহাসিক শিল্ড চালুু করা হয়েছিল। ফাইনালে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ ঘিরে চরম উন্মাদনাও তৈরি হয়েছিল। এ বারও ফাইনাল হয়েছে দুই প্রধানের মধ্যে।
কলকাতা ফুটবল লিগের সম্প্রসারণ: ২০২৩ সালে সিএফএল প্রিমিয়ার ডিভিশনে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৬টি করা হয়েছিল সচিবের উদ্যোগে। বেড়েছে প্রতিযোগিতা। এই মরসুমে পুজোর আগে লিগ এবং শিল্ড শেষ করার কৃতিত্বও ময়দান তাঁকেই দিচ্ছে। কলকাতা লিগে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। অনির্বাণ দত্ত কোনও পক্ষ না দেখে কলকাতা পুলিশের হাতে তদন্তভার তুলে দিয়েছিলেন। গ্রেফতারও হয়েছিলেন অনেকে। কাউকে আড়াল না করার মনোভাব প্রশংসিত হয়েছিল ময়দানে।
জাতীয় ফুটবল প্রশাসনে প্রতিনিধিত্ব: ২০২৩ সালে এআইএফএফ লিগ কমিটি এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিন সদস্যের এআইএফএফ-আইএসএল সমন্বয় কমিটিতে ছিলেন অনির্বাণ। বহু বাধা কাটিয়ে ২০২৫-২৬ ইন্ডিয়ান সুপার লিগ শুরুর করার ক্ষেত্রে নিয়েছিলেন বড় ভূমিকা। মরশুমের সূচনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সেরা রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি: তাঁর কার্যকালে সর্বাধিক সংখ্যক ফেডারেশন পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে বাংলা সেরা রাজ্যের স্বীকৃতি অর্জন করে।
এ ছাড়াও অনির্বাণ দত্ত আইএফএ সচিব থাকাকালীন বাংলা যেমন ১২ বছর পরে সন্তোষ ট্রফি পেয়েছে, তেমনই খেলো ইন্ডিয়া, বিসি রায় ট্রফি, জাতীয় গেমসে বাংলার ঘরে এসেছে পদক।
একই সঙ্গে অনির্বান দিকে আর্থিক অভিযোগ বা অন্য কিছু নিয়ে আঙুল ওঠেনি। যা ময়দানে মাঝে-মাঝেই দেখা যায়। তাঁর হাতে থাকলে সুরক্ষিত থাকবে আইএফএ, এমনই মনে করছেন সদস্যরা।
বিরোধী পক্ষও যে খুব তৈরি, তা নয়। তাদের দিকে তেমন কেউ নেই। সবচেয়ে বড় কথা, নতুন ক্রীড়া নীতির পরে আইএফএর প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে যে সব মাপকাঠি রয়েছে, তা পূরণ করার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন জোর করে অনির্বাণকে সরালে ব্যাপারটা কোনদিকে যাবে, নজর সে দিকেই।


