‘৩ গোলে জেতা উচিত ছিল’, আক্ষেপ হাবাসের, পেনাল্টি না দেওয়া নিয়েও তুললেন প্রশ্ন
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর, ২০২৬

ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত দাপট বজায় রেখেও ম্যাচ বাঁচানো যায়নি। একের পর এক নিশ্চিত সুযোগ নষ্টের মূল্য দিতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে যুবভারতীতে ওমানের আল সিব ক্লাবের কাছে ০-২ গোলে হেরে গ্রুপপর্ব থেকে কার্যত বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে লাল-হলুদ ব্রিগেড। ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে এসে দলের হার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশে দাঁড়ালেন হেড কোচ আন্তোনিও লোপেজ় হাবাস।
অন্তত ৩-০ ব্যবধানে জেতা উচিত ছিল: হাবাস
ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণে প্রাধান্য দেখিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। একাধিকবার গোললাইন থেকে বল বাঁচায় প্রতিপক্ষ। এই সুযোগ নষ্টের কথা তুলে ধরে স্প্যানিশ কোচ আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘স্কোরবোর্ডে যা দেখা যাচ্ছে তা মাঠের বাস্তব প্রতিফলন নয়। আমাদের প্রথমার্ধেই ২-০ বা ৩-০ গোলে এগিয়ে ড্রেসিংরুমে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ফুটবল এমনই—গোল না করলে কিছুই করার থাকে না।’
প্রতিপক্ষের তুলনায় ইস্টবেঙ্গল ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে দাবি করে হাবাস বলেন, ‘ম্যাচের ৭৫-৮০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিপক্ষের কোনও সুযোগই ছিল না। সেখানে আমাদের ফুটবলাররা অন্তত ৬-৭টি সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশ করতে পারেনি। দিনশেষে এই গোল করা এবং না করতে পারার ব্যবধানটাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।’ আল শর্টা ম্যাচের মতোই কম সুযোগ পেয়ে প্রতিপক্ষ গোল করে চলে গেল বলে তাঁর আক্ষেপ।
১৫ মিনিটে আনোয়ারের চোট
ম্যাচের শুরুর দিকেই বড় ধাক্কা খায় লাল-হলুদ শিবির। মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি। ফলে দ্রুত ট্যাকটিক্যাল রদবদল ঘটিয়ে রক্ষণভাগ নতুন করে সাজাতে হয় কোচকে।
আনোয়ারের চোট প্রসঙ্গে হাবাস বলেন, ‘আনোয়ার দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ওকে তুলে নিতে হওয়ায় শুরুর দিকেই দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাবস্টিটিউশন নষ্ট হয়ে যায়।’ তবে আনোয়ারের চোট কতটা গুরুতর, তা ডাক্তারদের পরীক্ষা ও রিপোর্টের পরেই স্পষ্ট জানা যাবে বলে জানান তিনি।
মানসিকতার সমস্যা নয়, ঘাটতি ফিনিশিংয়ে
ISL-এ গোল পেলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে কেন ভারতীয় ফুটবলাররা সুযোগ নষ্ট করছেন—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন হাবাস। তিনি বলেন, ‘এটা কোনওভাবেই মানসিকতার ঘাটতি নয়। তবে এটা মানতেই হবে যে এই টুর্নামেন্টের প্রতিপক্ষরা প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলে, আর আমরা হয়তো এক-দুই দশক পর পর এই ধরনের প্রতিযোগিতায় নামছি।’
দলের ফুটবলারদের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি জানান দানি রামিরেজ়কে যেভাবে ফাউল করা হয়েছিল বক্সের মধ্যে তাতে ইস্টবেঙ্গল পেনাল্টি পেতে পারত।
লক্ষ্য এবার চেন্নাই সফর ও ক্লান্তি কাটানো
টানা খেলার কারণে খেলোয়াড়দের ক্লান্তির বিষয়টি স্বীকার করে হাবাস জানান, সামনের চেন্নাইয়িন এফসি ম্যাচের আগে দল মাত্র একটি রিকভারি সেশন পাচ্ছে। ফুটবলারদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙ্গা করে চেন্নাই সফর থেকে পয়েন্ট তোলাই এখন লাল-হলুদের মূল চ্যালেঞ্জ।


