Advertisement

‘৩৬০ ডিগ্রি বদলে গিয়েছে জীবন’, ভারতের বিরুদ্ধে নতুন পরীক্ষার সামনে কোচ ফোরলান

এই সময়

প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০২৬

কোচ হওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কী বললেন দিয়েগো ফোরলান।,ছবি: অর্ণব চক্রবর্তী
কোচ হওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কী বললেন দিয়েগো ফোরলান।,ছবি: অর্ণব চক্রবর্তী

উরুগুয়ে (Uruguay) দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর দিয়েগো ফোরলানের (Diego Forlan) জীবনটাই বদলে গিয়েছে। ফুটবলার হিসেবে যেখানে নিজের প্রস্তুতি, পারফরম্যান্স আর ম্যাচের দিকে মূলত নজর দিতে হতো, কোচ হওয়ার পর দায়িত্বটা হয়ে গিয়েছে অনেক বড়। শুধু খেলোয়াড় নয়, পুরো দল, কোচিং স্টাফ, অনুশীলন, পরিকল্পনা— সব কিছুই সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। তার মধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া পেরিয়ে এ বার ভারতের বিরুদ্ধে নতুন চ্যালেঞ্জ। কম সময়ের মধ্যে দলকে তৈরি করাই এখন ফোরলানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

কোচ হওয়ার পর ৩৬০ ডিগ্রি বদলে গিয়েছে জীবন

ফুটবলার হিসেবে নিজের পারফরম্যান্সের উপরই সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হত ফোরলানকে। কিন্তু কোচ হওয়ার পর ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এখন দলের প্রত্যেক ফুটবলার থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ— সবাইকে নিয়ে ভাবতে হয় তাঁকে। অনুশীলন থেকে ম্যাচের পরিকল্পনা, খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি থেকে দলের পরিবেশ, সবটাই তাঁর দায়িত্ব। সোমবার ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে নামার আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে ফোরলান বলেন, ‘একজন ম্যানেজার হিসেবে শুধু নিজের কথা ভাবলে হয় না। পুরো দল এবং কোচিং স্টাফকে দেখতে হয়। সব কিছু ঠিকঠাক ভাবে সাজাতে হয়। লক্ষ্য একটাই— দলকে যতটা সম্ভব ভালো খেলানো এবং ম্যাচ জেতানো।’

ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিন যুবভারতীতে উরুগুয়ের অনুশীলনে দিয়েগো ফোরলানের ছবি।

ফুটবলার ও কোচের জীবনের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে ফোরলান আরও বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনাকে মূলত নিজের প্রস্তুতি, আচরণ এবং পারফরম্যান্সের দিকে নজর দিতে হয়। অবশ্যই ফুটবল দলগত খেলা, সতীর্থদের সঙ্গে খেলতে হয়। কিন্তু কোচ হিসেবে দায়িত্বটা ৩৬০ ডিগ্রির। আপনাকে সব কিছু নিয়েই ভাবতে হয়।’

জাতীয় দলের কোচের সবচেয়ে বড় সমস্যা সময়

জাতীয় দলের কোচ হওয়ার পর ফোরলান বুঝেছেন, ক্লাব ফুটবলের মতো নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ এখানে নেই। ফুটবলাররা বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। ফলে জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে পাওয়া যায় খুব অল্প সময়। সেই সময়ের মধ্যেই নতুন পরিকল্পনা বোঝানো, ফুটবলারদের একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং মাঠে তার প্রয়োগ— সব করতে হয়। ফোরলান বলেন, ‘জাতীয় দলের কোচ হলে আপনাকে বুঝতে হবে, ক্লাবের মতো সময় এখানে পাবেন না। এটাই নিয়ম। আমি এটা নিয়ে অভিযোগ করছি না। বহু বছর ধরেই এমন চলছে এবং ভবিষ্যতেও এমনই থাকবে। তাই যে সময়টা পাওয়া যায়, সেটাকে যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে হবে।’

এ বার অবশ্য কিছুটা বেশি সময় পেয়েছেন ফোরলান। প্রায় ২০ দিনের এই সময়কে কাজে লাগিয়েই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলছে উরুগুয়ে। তবে দীর্ঘ ভ্রমণের ধাক্কাও রয়েছে। জাপান থেকে দক্ষিণ কোরিয়া, সেখান থেকে কলকাতা— এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে হয়েছে দলকে। ফোরলান তাই বলেন, ‘এ বার প্রায় ২০ দিন সময় পাচ্ছি। তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ জাপান, কোরিয়া এবং ভারত— তিন জায়গার মধ্যে অনেকটা দূরত্ব। তাই হাতে যে সময় রয়েছে, সেটাকে যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে হবে।’

ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিন যুবভারতীতে উরুগুয়ের অনুশীলনে দিয়েগো ফোরলানের ছবি।

হারের ধাক্কা সামলে ভারতের বিরুদ্ধে নতুন পরীক্ষা

ফোরলানের দায়িত্বে উরুগুয়ের শুরুটা একেবারে মসৃণ হয়নি। জাপানের বিরুদ্ধে ১-৩ হারে দল। ফোরলানের মতে, সেই ম্যাচে হারটা প্রাপ্য ছিল না। এর পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে চার দিনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল উরুগুয়ে। সেই ম্যাচের পারফরম্যান্সে যথেষ্ট খুশি ফোরলান। ম্যাচটি উরুগুয়ে ৪-১ জেতে। ফোরলান বলেন, ‘প্রথম ম্যাচের আগে আমরা মাত্র এক দিন একসঙ্গে ছিলাম। একে অপরকে জানার চেষ্টা করছিলাম। তার পরই ম্যাচ খেলতে হয়। ম্যাচের শেষ দিকে আমরা অল্প সময়ের মধ্যে দু’টি গোল খাই। কিন্তু আমার মনে হয় না, ওই ম্যাচে আমাদের হার প্রাপ্য ছিল। আমরা ভালো খেলেছিলাম, গোল করার সুযোগও বেশি পেয়েছিলাম। কিন্তু ফুটবলে এমন হয়— হারার যোগ্য না হয়েও কখনও কখনও হেরে যেতে হয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে অবশ্য ছবিটা বদলেছে। চার দিনের প্রস্তুতি, বিশ্রাম এবং অনুশীলনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দল অনেক বেশি সংগঠিত ফুটবল খেলেছে। ফোরলান মনে করেন, সেটাই দেখিয়ে দিয়েছে অল্প সময়ের মধ্যেও সঠিক পরিকল্পনা করতে পারলে দলকে বদলে দেওয়া সম্ভব। এ বার সামনে ভারত। ফোরলান জানেন, এই ম্যাচও সহজ হবে না। তবে প্রতিপক্ষকে হাল্কা করে দেখার প্রশ্নই নেই তাঁর কাছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে আমাদের হাতে আরও কয়েক দিন সময় ছিল। অনুশীলন করার এবং বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আমরা জানি, এই ম্যাচটিও কঠিন হবে। উরুগুয়ের জাতীয় দল হিসেবে আমরা সব সময় প্রত্যেক প্রতিপক্ষকে সম্মান করি।’

Lading . . .