বিপাকে বিশ্বকাপের নায়ক ভোজ়িনহা, মিলছে না প্রথম একাদশে সুযোগ
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আগে জোসিমার জস এভোরা ডিয়াস বা ভোজ়িনহাকে কতজন চিনতেন তা হয়তো আঙুলের কর গুনে বলে দেওয়া যাবে। কিন্তু বিশ্বকাপের স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচটা ভোজ়িনহার পুরো ভাগ্য বদলে দিয়েছে। অনামী তারকা এখন সবচেয়ে চর্চিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় থেকে বিজ্ঞাপনের জগতে রাজত্ব করছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে যেই ফর্মে ভোজ়িনহাকে দেখা গিয়েছিল ক্লাব ফুটবলে তার ছিটেফোঁটাও নেই। পরিস্থিতি এমন, বিশ্বকাপের নায়ক এখন প্রথম একাদশেই জায়গা করতে পারছেন না।
১৪ ম্যাচের মধ্যে সুযোগ পান মাত্র ৫টিতে
বিশ্বকাপের সাফল্যের রেশ ধরে গত জুলাইয়ে লাতিন আমেরিকার চিলির অন্যতম সফল ক্লাব কোলো কোলোতে পাড়ি জমান ভোজ়িনহা। সান্তিয়াগোর এস্তাদিও মনুমেন্তালে হাজার হাজার দর্শকের গর্জন আর আতশবাজির রোশনাইয়ের মাঝে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাঠের বাস্তব ছিল বড় নিষ্ঠুর। নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত লিগ ও কাপ মিলিয়ে ক্লাবের ১৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৫টিতে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। যে পাঁচ ম্যাচে খেলেছেন, গোল হজম করেছেন তিনটি—পরিসংখ্যানের দিক থেকে তা খারাপ না হলেও কোলো কোলোর হেড কোচের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছেন তাঁদেরই ঘরের ১৯ বছর বয়সি তরুণ তুর্কি গ্যাব্রিয়েল মাওরেইরা। ফলে চিলির লিগ খেতাবের অন্তিম লড়াইয়েও ডাগ-আউটের বেঞ্চেই কাটাতে হচ্ছে ভোজ়িনহাকে।
মাঠের এই ব্যর্থতায় ঘি ঢেলেছেন বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটির প্রাক্তন চিলিয়ান কিংবদন্তি গোলকিপার ক্লাওদিও ব্রাভো। ভোজ়িনহার ট্যাকটিক্যাল ক্ষমতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে ব্রাভো বলেন, ‘দলের বাকি ডিফেন্ডারদের সঙ্গে সঠিক বোঝাপড়া করতে গিয়ে ও বেশ কিছু ভুল করেছে। এই পর্যায়ের ফুটবলে ডিফেন্সের সঙ্গে বোঝাপড়া না থাকলে আপনি কখনই সফল হতে পারবেন না।’
সেলিব্রিটি হওয়ার আগে জীবনে ফিরতে চান ভোজ়িনহা
এদিকে মাঠের বাইরে রাতারাতি পাওয়া এই খ্যাতিও ক্লান্ত করে তুলেছে সাধারণ জীবন থেকে আসা মানুষটিকে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য অবজারভার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভোজ়িনহা অকপটে স্বীকার করেছেন নিজের মানসিক যন্ত্রণার কথা। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনের সমস্ত শান্তি হারিয়ে ফেলেছি। বাইরে রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে সাধারণ মানুষের ভিড় উপচে পড়ে, ছবি তোলার জন্য টানাটানি চলে, অনেকে লুকিয়ে ভিডিয়ো করে। আমাকে যদি আজ অপশন দেওয়া হয় এই খ্যাতিময় জীবন আর আমার আগের সাধারণ জীবনের মধ্যে বেছে নেওয়ার, আমি চোখ বন্ধ করে আমার আগের জীবনটাই বেছে নেব।’
কোলো কোলোর সঙ্গে ভোজ়িনহার প্রাথমিক চুক্তি মাত্র ছয় মাসের। নির্দিষ্টসংখ্যক মিনিট মাঠে না থাকলে আরও এক বছর চুক্তি বৃদ্ধির যে শর্ত রয়েছে, তা পূরণ হওয়া এখন বিশ বাঁও জলে। লিগে আর হাতে গোনা কয়েকটি ম্যাচ বাকি। চিলির ক্লাবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভোজ়িনহা মুখে বলছেন, ‘আমি কোপা লিবার্তোদোরেসে খেলতেই এখানে এসেছিলাম। তবে এই মুহূর্তে আমার সব মনোযোগ দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে, ভবিষ্যৎ নিয়ে পরে ভাবব।’ তবে চিলির ক্রীড়া মহলের যা ইঙ্গিত, ডিসেম্বরের শেষেই হয়তো শেষ হতে চলেছে ভোজ়িনহার এই দক্ষিণ আমেরিকান অভিযান।
FAQ
কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজ়িনহার আসল নাম ও বয়স কত?
উত্তর: তাঁর পুরো নাম জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস (Josimar Jose Evora Dias) এবং তাঁর বর্তমান বয়স ৪০ বছর।
বিশ্বকাপে ভোজ়িনহা কোন ম্যাচের জন্য রাতারাতি বিশ্বতারকা হয়ে ওঠেন?
উত্তর: ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার স্পেনের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে অবিশ্বাস্য সব সেভ করে গোলশূন্য (০-০) ড্র এনে দিয়ে বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হন তিনি।
চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে ভোজ়িনহার বর্তমান পরিস্থিতি কী?
উত্তর: কোলো কোলোতে যোগ দেওয়ার পর সম্ভাব্য ১৪টি ম্যাচের মধ্যে তিনি মাত্র ৫টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছেন এবং ১৯ বছর বয়সি তরুণ কিপার গ্যাব্রিয়েল মাওরেইরা প্রথম পছন্দ হওয়ায় ভোজ়িনহা এখন মূলত সাইডবেঞ্চেই কাটাচ্ছেন।
তারকা জীবন নিয়ে ভোজ়িনহা কী মন্তব্য করেছেন?
উত্তর: ভোজ়িনহা জানিয়েছেন যে এই খ্যাতি তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়েছে। আজকের তারকা জীবন এবং আগের সাধারণ জীবনের মধ্যে বেছে নিতে বললে তিনি নিজের আগের জীবনটাই বেছে নেবেন।


